স্ত্রী-সন্তানসহ খুব সাদামাটাভাবে চলছিল অমূল্যর পরিবার। প্রতিবেশী জাকির হোসেনের হৃদয়বিদারী বাজনা আর মোশাররফ চৌধুরীর পাগলামিটুকু মেনে নিলে জীবন ছিল সুন্দর। স্বাভাবিকতার সেই সুর কেটে অমূল্যদের জীবনে হঠাৎ উদয় হলো মূল্যবান আকিক পাথরের বিশাল বড় এক বোল্ডার এবং কয়েকটি সোনালি পোকা—স্ফটিকনির্মিত শরীর এদের। চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে লাগল এরা। শুরুতে অমূল্য ভেবেছিল তাদের ভাগ্য পাল্টে যেতে শুরু করেছে। হ্যাঁ, ভাগ্য আসলেই পাল্টাতে শুরু করেছিল, তবে সেটা খুব নির্দয়ভাবে। পোকাগুলো তছনছ করল বাড়ির সব আসবাব। মেরে ফেলতে শুরু করল আশপাশের প্রাণী। প্রাণিবিদ মোশাররফ চৌধুরী পরীক্ষা করে জানালেন, পোকাগুলো চেনা এই জগতের নয়। বিস্ময়করভাবে এদের গঠনে প্রোটোপ্লাজমের কোনো অস্তিত্বই নেই। ধীরে ধীরে টের পাওয়া গেল, এরা শুধু অমূল্যর পরিবার নয়, পুরো পৃথিবীর জন্যই হুমকি। এখন কীভাবে সবাই উদ্ধার পাবে এই প্রাণীর হাত থেকে? আদৌ পাবে কি?
সব শান্ত হয়ে গেছে। যেন এর চেয়ে শান্তিময় পরিবেশ আর কিছু হতে পারে না। মরা কুকুরটা চিত হয়ে লনে পড়ে রয়েছে। পোকারা গাড়িগুলোকে খুলে ফেলার কাজে ব্যস্ত। দৃষ্টিসীমার মধ্যে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না...পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নেই, নিজেকে বললাম। কুকুরটা আগের পরিস্থিতিকে বদলে দিয়ে গেছে। পোকাগুলো এখন আর শুধু একটা রহস্য নয়, এখন ওরা একটা ভয়ংকর বিপদ। ওরা প্রত্যেকে আসলে একটা করে বুলেট। আমাদের পরিচিত বুলেটের সঙ্গে পার্থক্য হলো, এদের বুদ্ধিমত্তা আছে।
Customer Questions and answers :
Login to ask a question